খুলনার পাইকগাছার লতা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু মুছার বিরুদ্ধে হিন্দুদের ওপর বিভিন্ন নির্যাতনের অভিযোগ ও এর প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে স্থানীয় বিএনপির একাংশ।
শনিবার (৯ নভেম্বর) পাইকগাছা রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যালয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মো. ইব্রাহিম গাজী এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ইব্রাহীম গাজী লিখিত বক্তব্যে বলেন, পাইকগাছার লতা ইউনিয়ন হিন্দু অধ্যুষিত ইউনিয়ন। বিএনপির প্রতিষ্ঠা হতে এ ইউনিয়নে হিন্দুরাই বিএনপিকে উজ্জীবিত করে রেখেছিল। সাবেক চেয়ারম্যান কিরণ চন্দ্র বিশ্বাসকে সভাপতি এবং মনোরঞ্জন রায়কে সম্পাদক করে প্রথম বিএনপির ইউনিয়ন কমিটি হয়। মনোরঞ্জন লতা ইউনিয়ন ছেড়ে পাইকগাছায় এলে আমাকে উক্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করেন। কমিটিতে অধিকাংশ হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাইয়েরা ছিলেন। কিন্তু বর্তমানে আবু মুছাকে সাধারণ সম্পাদক করায় হিন্দুদেরকে কমিটি থেকে বাদ রেখে মুছার অনুসারীদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, গত ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হলে মুছার নেতৃত্বে তার আত্মীয়স্বজন ইউনিয়নের শামুকপোতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বিপ্লব সরকার, মদন মোহন মন্ডলদের বাড়িতে হামলা, লুটপাট, ভাঙচুর ও চাঁদা আদায় করা হয়েছে। এ ছাড়া শামুকপোতা বাজারে হিরনায় মন্ডল, প্রশান্ত মন্ডল, সমীরণ মন্ডলদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। ইউনিয়নের কাঠামারী বাজারে সমরেশ ঘোষ, আনন্দ মোহন মন্ডল, কালিদাস মাস্টারের দোকান লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর করা হয়েছে। যে হিন্দুরা একদিন বিএনপিকে উজ্জীবিত করে রেখেছিল বর্তমানে মুছার অত্যাচারে তারা আতঙ্কিত।
মুছা বাহিনীর অত্যাচার থেকে এলাকাবাসীকে বাঁচাতে প্রশাসনসহ বিএনপির উর্দ্ধতন নেতৃত্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন মো. ইব্রাহীম গাজী।
এদিকে অভিযোগ প্রসঙ্গে থানা বিএনপির সভাপতি ডা. আব্দুল মজিদ বলেন, আমি এসব বিষয়ে কিছু জানি না। সবই কাল্পনিক, মিথ্যা বানোয়াট কাহিনি। যদি কেউ আমার নাম ভাঙ্গিয়ে কিছু করে থাকে তাহলে সে দায় দায়িত্ব তাকেই বহন করতে হবে। এছাড়া ইব্রাহীম গাজী আমার সর্ম্পকে যে সমস্ত মিথ্যা বানোয়াট কাল্পনিক অভিযোগ এনেছে সেগুলো তাকে প্রমাণ করতে হবে। আর প্রমাণ করতে না পারলে ইব্রাহীমের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কমেন্ট বক্স